দীর্ঘমেয়াদে ডিভিডেন্ড আয়ের জন্য শেয়ার বাছাই: ঝুঁকি, বৈচিত্র্য ও খরচের বাস্তব কৌশল

webmaster

배당주 장기 투자 전략 - Photorealistic long-term dividend investing concept, a middle-aged Bengali investor in modest profes...

দীর্ঘমেয়াদি ডিভিডেন্ড বিনিয়োগে শুধু উচ্চ ফলন নয়, আয়ের স্থায়িত্ব, নগদ প্রবাহ, ঋণ, মূল্যায়ন ও বৈচিত্র্য গুরুত্বপূর্ণ। লক্ষ্য, ঝুঁকিসীমা ও ব্রোকারেজ খরচ অনুযায়ী পোর্টফোলিও গড়ার ব্যবহারিক কাঠামো জানুন।

배당주 장기 투자 전략 관련 이미지 1

দীর্ঘমেয়াদি ডিভিডেন্ড বিনিয়োগে শুধু বেশি ইয়িল্ড নয়, টেকসই ব্যবসা, নগদ প্রবাহ, ঋণ ও খরচ একসঙ্গে দেখতে হয়। নিয়মিত আয়, মূলধন বৃদ্ধি এবং ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের ভারসাম্য রাখলে সিদ্ধান্ত আরও বাস্তবসম্মত হয়।
সরাসরি শেয়ার, ডিভিডেন্ড ETF ও মিউচুয়াল ফান্ড—প্রতিটির নিয়ন্ত্রণ, বৈচিত্র্য ও ফি আলাদা। তাই অনলাইন ব্রোকারেজ অ্যাকাউন্ট খোলার আগে কমিশন, অ্যাকাউন্ট ফি, কর-রিপোর্টিং ও স্বয়ংক্রিয় পুনর্বিনিয়োগ সুবিধা মিলিয়ে দেখা দরকার।
উচ্চ ডিভিডেন্ড ইয়িল্ড আকর্ষণীয় মনে হলেও তা কখনও শেয়ারের দাম কমে যাওয়া বা ভবিষ্যতে ডিভিডেন্ড কমার ঝুঁকির ইঙ্গিত হতে পারে। নিজের সময়, গবেষণার আগ্রহ, ঝুঁকিসহিষ্ণুতা ও বিনিয়োগের সময়সীমা অনুযায়ী পথ বেছে নেওয়াই যুক্তিযুক্ত।

এক নজরে

  • উচ্চ ইয়িল্ডের চেয়ে স্থায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ: মুনাফা, নগদ প্রবাহ, ঋণ ও ব্যবসার পরিস্থিতি দেখে ডিভিডেন্ডের সক্ষমতা বিচার করুন।
  • বৈচিত্র্য ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে: একাধিক কোম্পানি ও খাতে বিনিয়োগ করলে একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্যার প্রভাব সীমিত হতে পারে।
  • খরচ নিট রিটার্ন বদলে দিতে পারে: ব্রোকারেজ কমিশন, ফান্ডের ব্যয় অনুপাত, কর ও পুনর্বিনিয়োগের খরচ আগে যাচাই করুন।
বিকল্প নিয়ন্ত্রণ বৈচিত্র্য সময় ও গবেষণা খরচ দেখার বিষয়
সরাসরি ডিভিডেন্ড শেয়ার উচ্চ নিজে তৈরি করতে হয় বেশি ব্রোকারেজ কমিশন, অ্যাকাউন্ট ফি, কর
ডিভিডেন্ড ETF মাঝারি এক ফান্ডেই একাধিক শেয়ার থাকতে পারে তুলনামূলক কম ব্যয় অনুপাত, লেনদেন ফি, কর
মিউচুয়াল ফান্ড তুলনামূলক কম ফান্ডের কাঠামোর ওপর নির্ভরশীল কম ব্যয় অনুপাত, ফি, কর ও রিপোর্টিং
Advertisement

দীর্ঘমেয়াদি ডিভিডেন্ড আয়ের মূল কথা: ফলনের চেয়ে টেকসই ব্যবসা কেন গুরুত্বপূর্ণ

তিন লাইনে বিনিয়োগ কাঠামো: লক্ষ্য, ঝুঁকি ও সময়সীমা

প্রথমে ঠিক করুন আপনার প্রধান লক্ষ্য কী: নিয়মিত নগদ আয়, দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ বৃদ্ধি, নাকি দুটির ভারসাম্য। এরপর দেখুন বাজারমূল্য ওঠানামা করলে আপনি কতটা স্বচ্ছন্দ থাকবেন। সবশেষে সময়সীমা নির্ধারণ করুন, কারণ স্বল্পমেয়াদি প্রয়োজনের অর্থ এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অর্থ একভাবে পরিচালনা করা যুক্তিযুক্ত নাও হতে পারে।

ডিভিডেন্ড, মোট রিটার্ন ও মূলধন বৃদ্ধির সম্পর্ক

ডিভিডেন্ড হলো কোম্পানির মুনাফা বা সঞ্চিত আয় থেকে শেয়ারহোল্ডারদের নগদ বিতরণ। কিন্তু বিনিয়োগের ফল শুধু ডিভিডেন্ডে সীমিত নয়; শেয়ারের বাজারদামের পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ। মোট রিটার্ন ভাবতে হলে নগদ ডিভিডেন্ডের পাশাপাশি মূলধনের লাভ বা ক্ষতির কথাও বিবেচনায় নিতে হয়। ডিভিডেন্ড পুনর্বিনিয়োগ করলে সেই অর্থ থেকেও ভবিষ্যতে রিটার্ন তৈরি হতে পারে, তবে বাজারঝুঁকি তখনও থাকে।

কখন উচ্চ ইয়িল্ড সতর্কসংকেত হতে পারে

ডিভিডেন্ড ইয়িল্ড সাধারণত বার্ষিক ডিভিডেন্ডকে বর্তমান শেয়ারদাম দিয়ে ভাগ করে হিসাব করা হয়। ফলে শেয়ারের দাম দ্রুত কমলে ইয়িল্ড কাগজে-কলমে বেড়ে যেতে পারে। খুব বেশি ইয়িল্ড দেখলে প্রশ্ন করুন: কোম্পানির নগদ প্রবাহ কেমন, ঋণের চাপ আছে কি না, ব্যবসার পরিস্থিতি বদলেছে কি না এবং ভবিষ্যতে ডিভিডেন্ড ধরে রাখার সক্ষমতা কতটা। ইয়িল্ড একা কেনার কারণ নয়।

Advertisement

সরাসরি শেয়ার, ডিভিডেন্ড ETF না মিউচুয়াল ফান্ড—কোনটি কোন বিনিয়োগকারীর জন্য

নিয়ন্ত্রণ, বৈচিত্র্য, গবেষণার সময় ও খরচের তুলনা

নিজে শেয়ার বাছাই করলে কোন কোম্পানি পোর্টফোলিওতে থাকবে, তার ওপর আপনার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ থাকে। তবে আয়, নগদ প্রবাহ, ঋণ, মূল্যায়ন এবং ব্যবসার পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত গবেষণার সময়ও লাগে। ডিভিডেন্ড ETF একাধিক কোম্পানিতে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে পারে, ফলে শুরুতেই বৈচিত্র্য আনা সহজ হতে পারে। মিউচুয়াল ফান্ডে পেশাদার ব্যবস্থাপনার কাঠামো থাকতে পারে, কিন্তু ফি ও বিনিয়োগ নীতিমালা আলাদা করে বুঝতে হবে।

ব্রোকারেজ কমিশন, ব্যয় অনুপাত ও করের সম্ভাব্য প্রভাব

দীর্ঘ সময়ে ছোট খরচও জমতে পারে। ব্রোকারেজ কমিশন, ডিম্যাট বা ট্রেডিং অ্যাকাউন্টের ফি, ফান্ডের ব্যয় অনুপাত, কর এবং ডিভিডেন্ড পুনর্বিনিয়োগের খরচ নিট রিটার্নে প্রভাব ফেলতে পারে। করনীতি, উৎসে কর এবং ব্রোকারেজ চার্জ বিনিয়োগকারীর অবস্থান ও প্ল্যাটফর্মভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই শুধু বিজ্ঞাপিত সুবিধা নয়, পূর্ণ ফি-তালিকা ও কর-রিপোর্টিং ব্যবস্থা পড়ে সিদ্ধান্ত নিন।

নিজে বাছাইয়ের বদলে পেশাদার ব্যবস্থাপনা বিবেচনার পরিস্থিতি

যদি নিয়মিত কোম্পানি বিশ্লেষণের সময় না থাকে, বহু খাতে দ্রুত বৈচিত্র্য চান, অথবা গবেষণার কাজ সহজ করতে চান, তাহলে ডিভিডেন্ড ETF বা মিউচুয়াল ফান্ড বিবেচ্য হতে পারে। অন্যদিকে নির্দিষ্ট কোম্পানি সম্পর্কে গবেষণা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলে এবং পোর্টফোলিও নিজে পরিচালনা করতে চাইলে সরাসরি শেয়ার বাছাই প্রাসঙ্গিক হতে পারে। এখানে সঠিক উত্তর একটাই নয়; সময়, দক্ষতা ও খরচ মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

Advertisement

কোম্পানি যাচাইয়ের ব্যবহারিক কাঠামো

আয়, নগদ প্রবাহ ও ডিভিডেন্ড প্রদানের সক্ষমতা

ডিভিডেন্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত কোম্পানির বোর্ড, মুনাফা, নগদ প্রবাহ, ঋণ এবং ব্যবসায়িক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। তাই শুধু বর্তমান ডিভিডেন্ডের অঙ্ক দেখার বদলে কোম্পানির আয় ও নগদ প্রবাহের সক্ষমতা বোঝার চেষ্টা করুন। যে ব্যবসা নিয়মিতভাবে নগদ তৈরি করতে পারে, তার ডিভিডেন্ড নীতিও তুলনামূলকভাবে বোঝা সহজ হতে পারে—তবে এটিও ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা নয়।

ঋণের চাপ, পেআউট অনুপাত ও ব্যবসার স্থিতিশীলতা

ঋণের চাপ বেড়ে গেলে কোম্পানির নগদ ব্যবহারের অগ্রাধিকার বদলাতে পারে। পেআউট অনুপাত দেখার সময় সেটিকে একা না দেখে মুনাফা, নগদ প্রবাহ ও ব্যবসার চাহিদার সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। ব্যবসার আয় কতটা স্থিতিশীল, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ব্যয় সামলানোর ক্ষমতা কেমন এবং ঋণ পরিশোধের চাপ আছে কি না—এসব প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ।

ডিভিডেন্ড বৃদ্ধির ইতিহাস দেখার সীমাবদ্ধতা

অতীতে ডিভিডেন্ড বেড়েছে মানেই ভবিষ্যতেও বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বাজার, প্রতিযোগিতা, ঋণ, মুনাফা এবং ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে। ইতিহাসকে একটি পর্যবেক্ষণের সূত্র হিসেবে দেখুন, ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি হিসেবে নয়।

কেন ভালো কোম্পানিও অতিরিক্ত দামে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে

ভালো ব্যবসা মানেই যে যেকোনো দামে ভালো বিনিয়োগ, তা নয়। শেয়ারের বর্তমান মূল্যায়ন, ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা এবং আপনার ঝুঁকিসীমা বিবেচনা করা দরকার। ডিভিডেন্ড পাওয়ার আকর্ষণে মূল্যায়ন পুরোপুরি উপেক্ষা করলে মূলধনের ওঠানামার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

Advertisement

পোর্টফোলিও গড়ার ধাপ ও সাধারণ ভুল

জরুরি তহবিল ও উচ্চসুদের ঋণ পর্যালোচনার পর বিনিয়োগ বাজেট নির্ধারণ

দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আগে ব্যক্তিগত নগদ প্রয়োজন, জরুরি তহবিল এবং উচ্চসুদের ঋণের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা ব্যবহারিক পদক্ষেপ। যে অর্থ অল্প সময়ে লাগতে পারে, তা বাজারঝুঁকির মধ্যে রাখলে চাপ তৈরি হতে পারে। নিয়মিত ও সামর্থ্যভিত্তিক বিনিয়োগ বাজেট দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকে সহজ করে।

খাত, অঞ্চল ও কোম্পানিভিত্তিক বৈচিত্র্য

একটি কোম্পানি বা এক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। একাধিক খাত ও কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্যা পুরো পোর্টফোলিওতে কম প্রভাব ফেলতে পারে। বিদেশি বা ভিন্ন অঞ্চলের বিনিয়োগ বিবেচনা করলে সংশ্লিষ্ট কর, প্ল্যাটফর্মের সুবিধা ও অতিরিক্ত ঝুঁকির তথ্য আলাদা করে যাচাই করুন।

নির্দিষ্ট সময়ে বিনিয়োগ, পুনর্বিনিয়োগ ও বার্ষিক পর্যালোচনা

অনেক বিনিয়োগকারী নির্দিষ্ট সময়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী বিনিয়োগের কথা ভাবেন, যাতে প্রতিদিনের বাজার ওঠানামায় সিদ্ধান্ত বদলানোর প্রবণতা কমে। ডিভিডেন্ড পুনর্বিনিয়োগের সুবিধা থাকলে সেটির ফি, প্রযোজ্য কর ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার শর্ত জেনে নিন। বছরে অন্তত একবার লক্ষ্য, খরচ, বৈচিত্র্য এবং ঝুঁকির মাত্রা পর্যালোচনা করা উপকারী হতে পারে।

শুধু ইয়িল্ড দেখে কেনা, ঘন ঘন লেনদেন ও ফি উপেক্ষার ভুল

শুধু সর্বোচ্চ ইয়িল্ড দেখে শেয়ার কেনা ডিভিডেন্ড ফাঁদে ফেলতে পারে। ঘন ঘন কেনাবেচায় ব্রোকারেজ কমিশন ও অন্যান্য খরচ বাড়তে পারে। আবার কম ব্যয় অনুপাতের ফান্ড মানেই সব পরিস্থিতিতে উপযুক্ত—এমনও নয়; ফান্ডের বিনিয়োগ নীতি, বৈচিত্র্য ও আপনার লক্ষ্যও দেখতে হবে।

Advertisement

배당주 장기 투자 전략 관련 이미지 2

ভিন্ন লক্ষ্য অনুযায়ী কৌশল বদলাবে যেভাবে

নিয়মিত নগদ আয় অগ্রাধিকার হলে

নগদ আয় অগ্রাধিকার হলে ডিভিডেন্ডের ধারাবাহিকতা, কোম্পানির নগদ প্রবাহ, ঋণ এবং পোর্টফোলিওর বৈচিত্র্যকে গুরুত্ব দিন। কেবল বর্তমান ইয়িল্ড বেশি কি না, সেটি যথেষ্ট নয়। ডিভিডেন্ড কমলে ব্যক্তিগত নগদ পরিকল্পনায় কী প্রভাব পড়তে পারে, সেটিও ভাবুন।

দীর্ঘ সময়ের সম্পদ বৃদ্ধিই লক্ষ্য হলে

দীর্ঘ সময়ের লক্ষ্য হলে ডিভিডেন্ড পুনর্বিনিয়োগ এবং মূলধন বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে একসঙ্গে বিবেচনা করা যায়। তবে বাজারঝুঁকি থাকবে, এবং অতীতের পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের ফল নির্ধারণ করে না। সময়সীমা যত দীর্ঘই হোক, খরচ ও বৈচিত্র্য উপেক্ষা করা উচিত নয়।

কম সময়ে সহজ বৈচিত্র্য চাইলে

কম সময়ে অনেক কোম্পানিতে অংশগ্রহণের কাঠামো চাইলে ডিভিডেন্ড ETF বা মিউচুয়াল ফান্ড বিবেচনা করা যেতে পারে। সিদ্ধান্তের আগে ফান্ডের ব্যয় অনুপাত, অন্তর্ভুক্তির পদ্ধতি, বৈচিত্র্যের ধরন এবং কর-সংক্রান্ত নথি পাওয়ার সুবিধা যাচাই করুন।

অবসর-নিকট বিনিয়োগকারীর ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের বিবেচনা

অবসর-নিকট অবস্থায় নিয়মিত নগদ প্রয়োজন, জরুরি ব্যয়, সময়সীমা ও বাজারের ওঠানামা সামলানোর ক্ষমতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ব্যক্তিভেদে উপযুক্ত সম্পদ বণ্টন আলাদা; আয়, ঋণ, জরুরি তহবিল ও ঝুঁকিসহিষ্ণুতা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

Advertisement

নির্বাচন মানদণ্ড ও তুলনামূলক সারসংক্ষেপ

শেয়ার বা ফান্ড বাছাইয়ের ১০-পয়েন্ট চেকলিস্ট

১) আপনার লক্ষ্য কী, ২) সময়সীমা কত, ৩) ঝুঁকিসীমা কত, ৪) ডিভিডেন্ডের উৎস কতটা টেকসই, ৫) নগদ প্রবাহ কেমন, ৬) ঋণের চাপ আছে কি না, ৭) খাত ও কোম্পানির বৈচিত্র্য কতটা, ৮) বর্তমান মূল্যায়ন উপেক্ষা করা হচ্ছে কি না, ৯) ব্রোকারেজ ও ফান্ড ফি কত, ১০) কর ও রিপোর্টিংয়ের ব্যবস্থা পরিষ্কার কি না।

ফি, গবেষণা, পুনর্বিনিয়োগ ও রিপোর্টিং সুবিধা তুলনার পদ্ধতি

অনলাইন ব্রোকারেজ বা বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম তুলনার সময় কমিশন, অ্যাকাউন্ট ফি, ডিম্যাট ও ট্রেডিং সংক্রান্ত চার্জ, গবেষণা-টুল, পোর্টফোলিও ট্র্যাকিং, কর-রিপোর্ট এবং স্বয়ংক্রিয় পুনর্বিনিয়োগের সুবিধা একসঙ্গে দেখুন। ETF বা মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে ব্যয় অনুপাত এবং ফান্ডের নীতি পড়ুন। সরকারি বা সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের বিস্তারিত শর্তের পাতায় ফি ও সুবিধা যাচাই করুন।

সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের ঝুঁকিসীমা যাচাই

পোর্টফোলিওর মূল্য কমলে আপনি কী করবেন—এ প্রশ্নের সৎ উত্তর গুরুত্বপূর্ণ। যদি বাজারের সাময়িক পতনে পরিকল্পনা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে বিনিয়োগের পরিমাণ, বৈচিত্র্য বা পণ্যের ধরন পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বদলালে পরিকল্পনাও বদলাতে পারে।

Advertisement

উপসংহার

দীর্ঘমেয়াদি ডিভিডেন্ড কৌশলের ভিত্তি হলো টেকসই আয়, যুক্তিসঙ্গত ঝুঁকি, বৈচিত্র্য এবং খরচ নিয়ন্ত্রণ। বেশি ইয়িল্ড দেখেই সিদ্ধান্ত না নিয়ে কোম্পানি বা ফান্ডের কাঠামো বোঝা জরুরি। সরাসরি শেয়ার, ETF বা মিউচুয়াল ফান্ড—যেটিই বেছে নিন, সেটি আপনার সময়, লক্ষ্য ও ঝুঁকিসীমার সঙ্গে মানানসই হওয়া উচিত। নিয়মিত পর্যালোচনা পরিকল্পনাকে বাস্তব অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সাহায্য করে।

Advertisement

জেনে রাখা উপকারী তথ্য

১) ডিভিডেন্ড বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে এবং কমতেও বা বন্ধও হতে পারে।

২) পুনর্বিনিয়োগ সম্ভাব্য চক্রবৃদ্ধি রিটার্নে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু বাজারঝুঁকি দূর করে না।

৩) ভিন্ন ব্রোকারেজ ও বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মে কর-রিপোর্টিং এবং পুনর্বিনিয়োগের সুবিধা আলাদা হতে পারে।

৪) ফান্ডের ব্যয় অনুপাত দীর্ঘমেয়াদি নিট রিটার্নে প্রভাব ফেলতে পারে।

Advertisement

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সারাংশ

কোন শেয়ার ভবিষ্যতে ডিভিডেন্ড বাড়াবে, কমাবে বা বন্ধ করবে তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। অতীতের ডিভিডেন্ড বৃদ্ধি বা শেয়ারদরের পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা নয়। করনীতি, উৎসে কর, ব্রোকারেজ চার্জ এবং উপযুক্ত সম্পদ বণ্টন ব্যক্তির অবস্থান, প্ল্যাটফর্ম, আয়, ঋণ, জরুরি তহবিল, সময়সীমা ও ঝুঁকিসহিষ্ণুতার ওপর নির্ভর করে। সিদ্ধান্তের আগে প্রাসঙ্গিক নথি ও শর্ত যাচাই করা প্রয়োজন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

Q1. দীর্ঘমেয়াদি ডিভিডেন্ড বিনিয়োগে কত শতাংশ ইয়িল্ডকে ভালো বলা যায়?

A1. সবার জন্য প্রযোজ্য একটি নির্দিষ্ট ইয়িল্ড নেই। উচ্চ ইয়িল্ডের পাশাপাশি কোম্পানির মুনাফা, নগদ প্রবাহ, ঋণ, ব্যবসার পরিস্থিতি এবং ডিভিডেন্ড টিকিয়ে রাখার সক্ষমতা দেখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

Q2. সরাসরি ডিভিডেন্ড শেয়ার কেনা ভালো, নাকি কম খরচের ডিভিডেন্ড ETF বেছে নেওয়া ভালো?

A2. এটি আপনার গবেষণার সময়, নিয়ন্ত্রণের চাহিদা, বৈচিত্র্যের লক্ষ্য এবং খরচের ওপর নির্ভর করে। সরাসরি শেয়ারে নিয়ন্ত্রণ বেশি, কিন্তু গবেষণাও বেশি লাগে। ETF তুলনামূলক সহজে বৈচিত্র্য দিতে পারে, তবে ব্যয় অনুপাত ও ফান্ডের নীতি যাচাই করা দরকার।

Q3. ডিভিডেন্ড পুনর্বিনিয়োগ করলে কি ঝুঁকি কমে যায়?

A3. না, পুনর্বিনিয়োগ বাজারঝুঁকি দূর করে না। এটি ডিভিডেন্ডের অর্থ থেকেও ভবিষ্যতে রিটার্ন তৈরির সুযোগ দিতে পারে, কিন্তু শেয়ার বা ফান্ডের মূল্য কমতে পারে এবং ডিভিডেন্ডও পরিবর্তিত হতে পারে।